
লক্ষ্যে শট ছিল নয়টি, গোলপোস্টে লেগে ফিরে এসেছে পাঁচবার, তিনটি গোল বাতিল হওয়া পাশপাশি প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিপক্ষের গোলকিপার সেভ করলেন গুনে গুনে আটবার। গোলের জন্য সবটুকু ঢেলে দেওয়া বার্সেলোনার জন্য এমনই দুর্ভাগ্যের ম্যাচ ছিল এটি। বৃথা যায় কাতালান ক্লাবটির সব চেষ্টা। থামে তাদের টানা ১১ ম্যাচের দারুণ জয়রথ।
লা লিগায় গতকাল রিয়াল সোসিয়েদেদের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছে বার্সেলোনা। প্রতিপক্ষের মাঠে প্রথমার্ধে মিকেল ওইয়ারসাবাল দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমে সমতা ফেরান বার্সার ইংলিশ ফরোয়ার্ড মার্কাস রাশফোর্ড। ঠিক পরের মিনিটেই গন্সালো গেদেসের গোল শেষ পর্যন্ত গড়ে দেয় ব্যবধান।
লিগে টানা নয় ম্যাচে জয় পাওয়া বার্সা রীতিমতো উড়ছিল। হান্সি ফ্লিকের দল লিগে সবশেষ হেরেছিল এল ক্লাসকোতে। প্রায় তিন আগে সেই হারের পর এবার সোসিয়েদেদের কাছে হোঁচট খেল লামিনে ইয়ামাল-রাফিনিয়রা।
এই হারের পরও অবশ্য পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই আছে বার্সেলোনা। তবে দুইয়ে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হারাল তারা। ২০ ম্যাচে ১৬ জয় এক ড্র ও তিন হারে ৪৯ পয়েন্ট বার্সার। আর এক পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে রিয়াল। ২৪ পয়েন্ট নিয়ে আট নম্বরে আট নম্বরে রিয়াল সোসিয়েদাদ।
প্রতিপক্ষের মাঠে গোল করার জন্য যা যা করা দরকার তার সবটাই করেছে বার্সা। ৭০ শতাংশের বেশি বল দখলে রেখে ২৫টি শট নিয়েছে তারা, যার মধ্যে নয়টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীকে ৭টি শট নিয়ে ছয়টি গোলমুখে রাখে রিয়াল সোসিয়েদাদ।
ঘরের মাঠে প্রথম মিনিটেই বার্সার জালে বল পাঠায় রিয়াল সোসিয়েদাদ। তবে অফসাইডে বাতিল হয় গোল। বিপরীতে সফরকারী বার্সার ফারমিন লোপেজ এবং লামিন ইয়ামালের গোলও ভিএআরের যাচাইয়ের পর অফসাইড কাটা পড়ে।
৩২ মিনিটে লিড নেয় স্বাতগতিক সোসিয়েদাদ। গুয়েডেসের ক্রস থেকে দুর্দান্ত ভলি করে গোল করেন মিকেল ওয়ারজাবাল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টিও পেতে পারত বার্সা। তবে ইয়ামাল অফসাইডের ফাঁদে পড়ায় আবারও সুযোগ হারায় তারা। এরপর দানি অলমো এবং রবার্ট লেভানডোভস্কির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
০-১ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বার্সেলোনা। ভাগ্য বিধাতা অবশেষে বার্সার দিকে চোখ তুলে তাকায় ৭০ মিনিটে। ইয়ামালের ক্রস থেকে হেড করে গোল করেন মার্কাস রাশফোর্ড। কিন্তু সমতায় ফেরার স্বস্তি স্থায়ী হয়নি ৬০ সেকেন্ডও। সোসিয়েদের মিডফিল্ডার গুয়েডেস গোলমাউথের ভিলতে ব্যবধান হয় ২-১।
দুর্ভাগ্যকে সঙ্গী করে মাঠে নামা বার্সার আরেকটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। জুলস কুন্ডের হেড অল্পের জন্য জড়ায়নি জালে। ৮৮ মিনিটে বার্সার মিডফিল্ডার পেদ্রিকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সোসিয়েদেদের মিডফিল্ডার কার্লোস সোলার। তবে শেষদিকে একজন কম নিয়ে খেলা প্রতিপক্ষের জালে আর বল পাঠাতে পারেনি বার্সা।
এই ম্যাচে বার্সা কতটা হতভাগা ছিল সেটা একটি পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে দ্বিতীয় দল হিসেবে এক ম্যাচে অন্তত পাঁচবার তাদের শট পোস্টে লেগে ফিরে এসেছে।এর আগে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে একই পরিণতি বরণ করতে হয়েছিল ব্রাইটনকে।
